টুকিটাকি

জল সংরক্ষণের টুকিটাকি – ১

বৃষ্টির জল গড়িয়ে গড়িয়ে আমাদের নাকের ডগা দিয়ে চলে যায়, আর প্রতি বছর কয়েকটি মাস বাদে, চলে জলের জন্যে হাহুতাশ। গেঁয়ো যোগী যেহেতু ভিখ পায় না, তাই ব্রাড ল্যাঙ্কেস্ট্রর বলে এক ভদ্রলোকের বই থেকে এই ছবি গুলো নেওয়া। কিন্তু তিনি তাঁর বইয়ে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন ভারতবর্ষ এবং আফ্রিকার গ্রামের মানুষদের কাছে যারা তাকে এই বৃষ্টির জল ধরতে শিখিয়েছে। হাজার বছর ধরে চলে আসা পদ্ধতিগুলি যে আসলে খুবই কার্যকরী তাও ব্র্যাড এক কথায় স্বীকার করেছেন। যাই হোক, বাড়ির উঠনে, বা পাড়ায়, বা স্কুলে, অফিসে ছোট ছোট সামান্য পরিবর্তন করে বৃষ্টির জল ধরা এবং মাটিতে পাঠানোর সহজ পদ্ধতির প্রথম ভাগ এটি।
১. আগে চাই পর্যবেক্ষণ – অর্থাৎ বৃষ্টির জল কোন দিক দিয়ে আসে, কোন দিকে যায়, কোথায় জমে, ঢাল কোথায় বেশি কোথায় কম। এবারে মনে মনে বা হাতে এঁকে একটা ছোট ম্যাপ বানানো, যেখান থেকে বোঝা যাবে বৃষ্টির জল কোন দিক থেকে আসে এবং কোন দিকে যায়। এটি হল আপনার ওয়াটারশেড। এটা খুব ছোট হতে পারে, যেমন স্কুলের প্রাঙ্গন আবার খুব বড়ো ও হতে পারে।
২. বৃষ্টির জল পড়ার সাথে সাথে হুহু করে বেরিয়ে চলে যায়, মাটিতে ঢোকার সুযোগ পায় কমে যায়। ফলে আমাদের সবার আগে জলের গতি কমাতে হবে যাতে যত বেশি সময় ধরে মাটির ওপর দিয়ে জল যেতে পারে। আপনার ওয়াটারশেডের ওপরে বৃষ্টির জলের গতি অপেক্ষাকৃত কম, জলের পরিমাণ ও কম, ফলে কাজ করতে সুবিধা। জল ওপর থেকে আটকানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে নিচের দিকে নজর দিতে হবে।
৩. এই আটকানোর ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও কঠিন না। সামান্য গর্ত ও এই কাজ করতে পারে। অনেক সময় আরদ্ধেক চাঁদের মত আকৃতির ছোট (ফুট ৬-১০) গর্তও একই কাজ করে। এবার এই গর্তের পাড়ে বা ভেতরে ভরে দিন গাছ, লতা গুল্ম ঘাস। এখানের মাটি অনেক বেশি ভেজা থাকবে শুখনো মরসুমেও।
৪. এই রকম একাধিক করতে পারলে আরও সুবিধা। যাতে একটার জল গিয়ে পড়ে আরেকটায়। এই ভাবে সারিবদ্ধ ভাবে জল আসতে আসতে গেলে, মাটির ভেতরে প্রবেশ করতে সুবিধা হবে।
৫. ওভারফ্লো বা জলের উপচে পড়াকে কাজে লাগাতে হবে, সেটাও কিন্তু সম্পদ। এই জল বৃষ্টির পর ছাদ থেকেও আসতে পারে আবার হাত ধোয়ার জল ও হতে পারে।
চেষ্টা করবেন নাকি। আমাদের জানান। আমরা টেকনিক্যাল ব্যাপারে নিশ্চয়ই সাহায্য করবো।

Leave a Comment