চাষবাস

চাষির খরচ কমাতে বলাগড় মডেল: জলবায়ু প্রতিরোধী সুস্থায়ী চাষবাসের পদ্ধতি

জমিতে জৈব উপায়ে, রাসায়নিক সারের তুলনায় অনেক কম খরচে, গাছের খাদ্য সরবরাহ করার জন্য বলাগড় মডেল একটি দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে চাষের জমিতে প্রধান খাদ্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়ামের সাথে বিভিন্ন অনুখাদ্য যেমন জিঙ্ক, বোরণ বা সালফার, ক্যালসিয়ামের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গাছের খাবার যৌগগুলির পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। এর সাথে শুরু হয়েছে রাসায়নিক সারের মূল্য বৃদ্ধি এবং অনেক সময়ই ফসলের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য রাসায়নিক সারের প্রয়োগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকদের চাষের খরচ এর একটা প্রধান অংশ চলে যাচ্ছে রাসায়নিক সার কেনার জন্য। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে জমিতে জৈব উপায়ে, রাসায়নিক সারের তুলনায় অনেক কম খরচে, গাছের খাদ্য সরবরাহ করার জন্য বলাগড় মডেল একটি দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। বহু হসলা জমির কারণে অনেক সময়ই কৃষকের ইচ্ছে থাকলেও সবুজ সার ফসলের চাষ করে হওয়া ওঠে না। বলাগড় মডেলে দেখা গেছে যে বায়ো-স্লারী প্রয়োগের মাধ্যমে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ছাড়াও বিভিন্ন অনুখাদ্য মাটিতে বৃদ্ধি পায়। শুধুমাত্র মাটির জন্য সারই নয়, এই পদ্ধতিতে উৎপন্ন হয় বায়োগ্যাস যা আপনাদের রান্নার জ্বালানির খরচ খানিকটা হলেও কম করবে।

বায়ো-স্লারীতে FYM এর তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম রয়েছে।

নাইট্রোজেনের বেশিরভাগ অংশই সহজে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকায় রাসায়নিক সারের মতোই তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়া যায়।
‌এই সার জমিতে একবার এর বদলে খেপে খেপে দেওয়ায় অনেক বেশি লাভ পাওয়া যায়।

‌শুধুমাত্র দেশীয় বীজ নয়, উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতীয় ফসলও শুধুমাত্র বায়ো-স্লারী মাধ্যমে অন্য কোন রাসায়নিক সার না প্রয়োগ করেও কৃষক রাসায়নিক সারের মতো বা তার থেকেও বেশি লাভ করতে পারে।

বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ধান যেমন স্বর্ণ, শতাব্দি, MTU ৭০২৯, উচ্চফলনশীল এবং হাইব্রিড প্রজাতির সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, কুমড়া, বরবটি, পালং, শাক, বেগুন, আলু, ঝিঙে, পটল, ডাল এবং তৈলবীজ ইত্যাদির উপর পরীক্ষা করে রাসায়নিক সারের ফলনের সমান বা তার থেকে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ক্রেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী রাসায়নিক সারের তুলনায় বায়ো-স্লারী দিয়ে তৈরি ফসলগুলি স্বাদে অতুলনীয়।

একটি বায়ু স্লারি প্লান্ট তৈরি করতে মোটামুটি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচা পরে কিন্তু দেখা যায় সে এই খরচা চাষীরা রাসায়নিক সার ব্যবহার করা এবং রান্নাবান্নার জ্বালানির খরচা মিলিয়ে এক বছরের পর থেকেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করবেন। একটি বায়োস্লারী প্ল্যান্ট ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ করলে প্রায় ৩০ বছর অব্দি চলতে পারে।

কোন ফসলে কতটা বায়ো-স্লারী দেবেন এবং কখন দেবেন তা জানতে একটি ছোট্ট হ্যান্ডবুক আছে। সেটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন। এই নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং কৃষি ক্ষেত্র থেকে লাইভ দেখার জন্য দেখে নিতে পারেন এই ভিডিওটি।

 

প্রচ্ছদের ছবিঃ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সংসদ

Leave a Comment